বৃষ্টির প্রতিশোধ

            

     বৃষ্টির প্রতিশোধ

বলেছে সে বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোবাসে দুহাত মেলে,
নাজুক কলমি লতার মতো মেঘের সরবোরে।
আমি তো মেঘের গোপন খবর আগাম জানতে পারি,
হিংসায় জ্বলে পুরে মরি; কতো দীর্ঘ হবে এবার আষাঢ় মাস?
কি জানি কতো যুগ আগের প্রেমিক তার বৃষ্টি হয়ে আসে,
ষড়যন্ত্রের মতো সুবিন্যস্ত অভিসন্ধি নিয়ে তির্যক তীরের মতো ,
চুলের গোঁড়া থেকে নাভির গভীরে ছুড়ে দেয়া সুদীর্ঘ চুম্বন
চোখের পাতা ও ঠোঁটের ডগা বেয়ে বাতাবী লেবুর মতো বুকে!
হিমালয়ের শীত পেটে নিয়ে সরসর সাপের মতো একেবেকে,
কোথায় না ছুঁয়ে যায় তার চঞ্চল প্রেমিকের গোপন অসভ্য আঙ্গুল !
শরীরের তাহার প্রশ্রয়ের আলিঙ্গন, আহ্লাদে গলে বৃষ্টির ফোঁটা,
ষড়যন্ত্রের মতো সুবিন্যস্ত অভিসন্ধি, সে কি বুঝেও বোঝেনা তা!
আবেশে তাহার চোখ কাঁপে তির তির, তৃপ্তির শিহরণ ভেজা সারা গায়ে।
আমি হিংসায় দাউ দাউ করি আগুনের মতো, জিঘাংসার ব্রত বুকে নিয়ে।
হয়তো সহস্র জনম পরে পবিত্র বৃষ্টি হয়ে জন্ম নেবো এই ঘোর আষাঢ়ে: শত তপস্যার ফলে,
ভালবাসার চাবুক চালাবো তার সমস্ত শরীরে, প্রতিশোধের মতো নির্দয়ে, ভিজাবো সে জলে।
অধর নিংড়ে তাহার নিতম্ব ছুঁয়ে দেবো নিশ্চয়, অবাধে নির্ভয়ে; আমাকে নিও চিনে,
আষাঢ়ের সুবিন্যস্ত বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায়, কামুক বর্ষা ঋতুর বৃষ্টিময় প্রতিটি দীর্ঘ দিনে।
[১লা আষাঢ়,১৪২০,লন্ডন]












  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

এই বর্ষায়



জানালায় বৃষ্টির ছটা
হৃদয়ের কপাট খোলা,
তুমি আমি বসি মখোমুখি
কিছু কথা যায়না বলা।

পাশে এসে হাত খানি ধরো
এই বর্ষার ঋতু আগমনে,
নি:সঙ্গতার রিম ঝিম ভেঙ্গে দাও
চোখে চোখ প্রেম নিবেদনে।

এভাবেই বসি কিছু কাল
যতো দিন বৃষ্টি না ফুরায়,
ততো দিন নেশা লেগে থাক
যতো দিন চোখ না জুড়ায়।



চৌকিতে শীতল পাটি
মাটির ঘর টিনের চালা ,
টিপ টিপ বৃষ্টি চুঁয়ায়
খোলা তবু সেই জানালা!

রাত আরো গভীর হলে
বারে যেন বৃষ্টি ধারা ,
তুমি আমি শুধু জেগে রই
কথা নয় কাব্য ছাড়া।

সারা দিনের ক্লান্তি ভুলে
পাশা পাশি শুই দুজনে,
রিম ঝিম বৃষ্টির গানে
কত কথা পরছে মনে!

কতো কথা হয়নি আজো
কতো স্বপ্নের বিমূর্ত নাচ,
চোখে চোখে কতো কথা হয়!
শিহরিত মুহূর্ত রাঙ্গা লাজ।

আজ ভালোবাসো গো আমায়
মায়া ভেঙ্গে একটু তাকাও,
বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে
তুমি আজ আমায় ভেজাও ।


  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বৃষ্টির ফোটা


কত বৃষ্টির রীম্ঝিম শব্দ বুকে নেয়া স্তব্ধ মেঘ!
কতো ঘুমন্ত বৃষ্টির ফোটা বুকে নেয়া ক্লান্ত মেঘ!
কত তৃষ্ণার্তের তীব্র চাওয়া বুকে নেয়া মৌন মেঘ!
একটু একটু করে জমানো কথার মত তারা তবু,
হাতে হাত ধরা বৃষ্টির ফোটা সব
মেঘ ভেঙ্গে যখন পৃথিবীতে নামে,
আমরা হাতে হাত ধরে পথে নামি,
আমরা দল বেঁধে গান গাই,
আমরা পবিত্র হই সেই বৃষ্টির স্নানে,
প্রাণ ফিরে আসে সব মৃত প্রায় ফসলের প্রানে,
চাতক পাখির ঠোঁটে হীরকের মত বৃষ্টির জল,
প্রানবন্ত পৃথিবী! দেখি ঘুম ভাঙ্গা রিমঝিম সব বৃষ্টির ফল।





  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

“বৃষ্টি”


বৃষ্টি এসে জানালার শার্শিতে
নুপুর বাজায় !
বৃষ্টি এসে চোখের পাপড়িতে নাচে
বৃষ্টি নামায়!
ভিঁজে ঘাস, ভিঁজে মাটি,
ভেঁজা কবুতর গুঁটি শুটি
নাচের মুদ্রায় দোলে গাছ
গাছের পাতায় বৃষ্টির নাচ,
উৎসব! উৎসব!
বৃষ্টি নেমেছে! বৃষ্টি!
বৃষ্টি ভেঁজাবে সব!

কবির ক্লান্ত হাতেও তখন কলম উঠে যায়
দক্ষ শিকারীর হাতে যেমন ওঠে তীর বল্লম,
বৃষ্টিতো জানেনা আজ আমার কবিতার সাথে অভিমান
আজ আমি কবিতা লিখতে চাই নি, তবুও লিখলাম।




  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বৃষ্টি আসে



এক বুক কবিতা নিয়ে পথে পথে হাঁটে কবি
দুই চোঁখ কবিতা নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে কবি
তিন ইন্দ্রিয় কবিতার সম্মোহনে বুঁদ হয়ে রয়,
জল রঙে কতোটুকু আঁকা যায় তারে,
কতটুকু ধরা দেয় আর মুদ্রণ অক্ষরে?
ইচ্ছে করে আকাশে এক ঝাঁক তীর ছুড়ে বুক পেতে ধরি।

এফোঁড় ওফোঁড় করে বন্ধা মাটিতে গাঁথুক সেই সব তীর,
সেই খানে ফুল ফুটুক, রঙ ঝড়ুক
সেই ফুলে মধু ভরুক, ভোমরা উড়ুক,
ভোমরার গুঞ্জরণে বাতাসে উঠুক ঢেউ
সে ঢেউয়ের লোনা জলে সমুদ্র দেখুক কেউ
দেখুক সবুজ অরন্যের দ্বীপ দূর সমুদ্র গহ্বরে
এক ঝাঁক মেঘ এসে ঢেকে দিয়ে গেছে তারে,
সে মেঘে বৃষ্টি আসে প্রেমের মতন; যদি কেও ভিঁজে যাও
তোমরাও তখন দিব্যলোকে কবিতা দেখতে পাও!






  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

তুই তুই



তুই তুই

মেয়েটি দেখছে রোদ
রোদটা হৃদয় ছুই ছুই,
বৃষ্টি নিবে প্রতিশোধ
মেঘটা বলছে তুই তুই।

মেয়েটি দেখছে মেঘ
মেঘটা আকাশ ছুই ছুই,
ঘুড়িটা উড়ছে তবু বেশ
পাখিটা বলছে তুই তুই।

মেয়েটি দেখছে পাখি
পাখিটা দুঃক্ষ ছুই ছুই,
লোনা জলে ডোবে আঁখি
বৃষ্টিটা বলছে তুই তুই।











  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আকাশে আষাঢ় এলো

আকাশে আষাঢ় এলো; বাংলাদেশ বর্ষায় বিহবল
                  বুদ্ধদেব বসু


আকাশে আষাঢ় এলো; বাংলাদেশ বর্ষায় বিহবল।
মেঘবর্ণ মেঘনার তীরে-তীরে নারিকেলসারি
বৃষ্টিতে ধূমল; পদ্মাপ্রান্তে শতাব্দীর রাজবাড়ি
বিলুপ্তির প্রত্যাশায় দৃশ্যপট-সম অচঞ্চল।
মধ্যরাত্রি; মেঘ-ঘন অন্ধকার; দুরন্ত উচ্ছল
আবর্তে কুটিল নদী; তীর-তীব্র বেগে দেয় পাড়ি
ছোটে নৌকাগুলি; প্রানপনে ফেলে জাল,টানে দড়ি
অর্ধনগ্ন যারা,তারা খাদ্যহীন,খাদ্যের সম্বল।
রাত্রি শেষে গোয়ালন্দে অন্ধ কালো মালগাড়ি ভরে
জলের উজ্জ্বল শষ্য, রাশি-রাশি ইলিশের শব,
নদীর নিবিড়তম উল্লাসে মৃত্যুর পাহাড়।
তারপর কলকাতার বিবর্ণ সকালে ঘরেঘরে
ইলিশ ভাজার গন্ধ; কেরানীর গিন্নির ভাঁড়ার
সরস সর্ষের ঝাঁজে।এলো বর্ষা,ইলিশ -উৎসব।












  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আবার এসেছে আষাঢ়

আবার এসেছে আষাঢ়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে--
আসে বৃষ্টির সুবাস বাতাস বেয়ে।
এই পুরাতন হৃদয় আমার আজি
পুলকে দুলিয়া উঠিছে আবার বাজি
নূতন মেঘের ঘনিমার পানে চেয়ে
আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে।
রহিয়া রহিয়া বিপুল মাঠের 'পরে
নব তৃণদলে বাদলের ছায়া পড়ে।
এসেছে এসেছে এই কথা বলে প্রাণ,
এসেছে এসেছে উঠিতেছে এই গান,
নয়নে এসেছে, হৃদয়ে এসেছে ধেয়ে।
আবার আষাঢ় এসেছে আকাশ ছেয়ে।








  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আষাঢ়



         আষাঢ়
   রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


নীল নবঘনে আষাঢ়গগনে তিল ঠাঁই আর নাহি রে।
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।
বাদলের ধারা ঝরে ঝরঝর,
আউশের ক্ষেত জলে ভরভর,
কালি-মাখা মেঘে ও পারে আঁধার ঘনিছে দেখ্ চাহি রে।
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।।

ওই ডাকে শোনো ধেনু ঘনঘন, ধবলীরে আনো গোহালে।
এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু পোহালে।
দুয়ারে দাঁড়ায়ে ওগো দেখ্ দেখি
মাঠে গেছে যারা তারা ফিরিছে কি,
রাখালবালক কী জানি কোথায় সারা দিন আজি খোয়ালে।
এখনি আঁধার হবে বেলাটুকু পোহালে।।
শোনো শোনো ওই পারে যাবে বলে কে ডাকিছে বুঝি মাঝিরে।
খেয়া-পারাপার বন্ধ হয়েছে আজি রে।
পুবে হাওয়া বয়, কূলে নেই কেউ,
দু কূল বাহিয়া উঠে পড়ে ঢেউ,
দরদর বেগে জলে পড়ি জল ছলছল উঠে বাজি রে।
খেয়া-পারাপার বন্ধ হয়েছে আজি রে।।
ওগো, আজ তোরা যাস নে গো, তোরা যাসনে ঘরের বাহিরে।
আকাশ আঁধার, বেলা বেশি আর নাহি রে।
ঝরঝর ধারে ভিজিবে নিচোল,
ঘাটে যেতে পথ হয়েছে পিছল,
ওই বেণুবন দুলে ঘনঘন পথপাশে দেখ্ চাহি রে।
ওগো, আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।।

- শিলাইদহ
২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৩০৭

















  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বর্ষার দিনে


বর্ষার দিনে
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এমন দিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায় -
এমন মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে
তপনহীন ঘন তমসায়।।
সে কথা শুনিবে না কেহ আর,
নিভৃত নির্জন চারি ধার।
দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি,
আকাশে জল ঝরে অনিবার -
জগতে কেহ যেন নাহি আর।।
সমাজ সংসার মিছে সব,
মিছে এ জীবনের কলরব।
কেবল আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে
হৃদয় দিয়ে হৃদি-অনুভব -
আঁধারে মিশে গেছে আর সব।।
বলিতে ব্যথিবে না নিজ কান,
চমকি উঠিবে না নিজ প্রাণ।
সে কথা আঁখিনীরে মিশিয়া যাবে ধীরে,
বাদলবায়ে তার অবসান -
সে কথা ছেয়ে দিবে দুটি প্রাণ।।
তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার
নামাতে পারি যদি মনোভার!
শ্রাবণবরিষনে একদা গৃহকোণে
দু কথা বলি যদি কাছে তার
তাহাতে আসে যাবে কিবা কার।।
আছে তো তার পরে বারো মাস -
উঠিবে কত কথা, কত হাস।
আসিবে কত লোক, কত-না দুখশোক,
সে কথা কোনখানে পাবে নাশ -
জগৎ চলে যাবে বারো মাস।।
ব্যাকুল বেগে আজি বহে বায়,
বিজুলি থেকে থেকে চমকায়।
যে কথা এ জীবনে রহিয়া গেল মনে
সে কথা আজি যেন বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়।















  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বৃষ্টির গান


বৃষ্টির গান
ফররুখ আহমদ

বৃষ্টি এলো কাশবনে
জাগলো সাড়া ঘাসবনে
বকের সারি কোথায় রে
লুকিয়ে গেলো বাঁশবনে।
নদীতে নাই খেয়া যে
ডাকলো দূরে দেয়া যে
কোন সে বনের আড়ালে
ফুটলো আবার কেয়া যে।

গাঁয়ের নামটি হাটখোলা
বৃষ্টি-বাদল দেয় দোলা
রাখাল ছেলে মেঘ দেখে
যায় দাঁড়িয়ে পথ ভোলা।

মেঘের আধার মন টানে
যায় সে ছুটে কোনখানে
আউস ধানের মাঠ ছেড়ে
আমন ধানের মাঠ পানে।











  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS